Aibrahim Riyadh's Blog

A Kite Without String...

July 13, 2019

সুশিক্ষা!

©Photo: The Conversation 
(২০১৫ সালে প্রথম যখন বন্যা আহমেদের বিবর্তনের পথ ধরে বইটি পড়ি, তখন আমার বয়স ছিলো ১৯। সেই সময়ের লেখাটি।)

প্রতিটি মানুষের জন্মের পিছনে একটি কারণ থাকে,যখন সে তার জন্মের কারণটি বুঝতে পারে তখন খুব দেরী হয়ে যায়।ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, পরিবার এইসব দিক নিয়ে চিন্তা করতে করতেই তার সময় চলে যায়।একজন শিক্ষিত মানে সুশিক্ষিত নয়! সঠিক বিষয়ের উপর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শিক্ষা অর্জনকারী ব্যক্তি হচ্ছে সুশিক্ষিত। জীবনের লক্ষ্য এবং জন্মের লক্ষ্য যদি এক হয় তবেই না সেই লক্ষ্য হবে সঠিক বিষয়।

আমাদের সবার জন্মের কারণ যদিও এক, বংশ টিকিয়ে রাখা! নিজেদের মধ্যে যে সত্তা বসবাসরত তার আকাঙ্ক্ষিত বিষয় এবং আমাদের নিজেদের আকাঙ্ক্ষিত বিষয় এক হতে হবে। যে ব্যক্তি নিজের আত্মার কথা শুনতে পায়না, সে কিভাবে সুশিক্ষিত হবে? মন থেকে বাঁচো অথবা মরে যাও। অন্যের চাপিয়ে দেওয়া লক্ষ্য আর নিজের লক্ষ্য এক হয়না।তাই আমাদের উচিত নিজের কথা শুনা। মন যে কাজে সাড়া দেয় সেটিই হচ্ছে আমাদের সঠিক লক্ষ্য,সঠিক বিষয়। আর সে সঠিক বিষয়ের উপর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জ্ঞানার্জন হচ্ছে সুশিক্ষা।

ধর্মঃ ধর্ম এবং রাজনীতি হচ্ছে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি পথ। ধর্ম এমন একটি বিষয় যা আমাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়।নিজেদের বাছাই করে নেওয়ার সুযোগ নেই।কোন ধর্ম সঠিক?  এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হবে নিজ ধর্ম! পৃথিবীতে এর থেকে বড় মিথ্যা আর নেই।আচ্ছা ধরুন, পাঁচ জন লোককে পাঁচ রং এর পাঁচটি চশমা দেওয়া হলো যথাক্রমে, কালো, লাল, হলুদ, সবুজ এবং নীল। এরপর তাদের চশমা পরিয়ে একটি সাদা রং এর দেওয়াল এর সামনে আনা হলো, তাদের আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন এই দেওয়ালটিতে কোন রং দেওয়া? কি উত্তর পাবেন? আপনি পাবেন পাঁচ রকমের উত্তর! এই পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে কার কথা সঠিক? পাঁচ ব্যক্তির কেউ কি নিজের দেখাটাকে ভুল বলবে? আপনি তাদের বিশ্বাস করাতে পারবেন যে দেওয়ালটি সাদা!

ধার্মিকরা এভাবে রঙিন চশমা পরে আছে আর তাদের বিশ্বাস সঠিক বলে ধর্মীয় মৌলবাদ সৃষ্টি করছে।

সামাজিক রীতিনীতিঃ ধর্মীয়গ্রন্থের বাণীর থেকেও ভয়ানক ভাবে পালিত হচ্ছে সামাজিক রীতিনীতি। ধর্মীয় শাসন থেকেও ভয়ানক হচ্ছে সমাজ। আমরা ইচ্ছে করলে স্বাধীন ভাবে চলতে পারিনা এই সামাজিক রীতিনীতির বলি হয়ে। আমাদের বোন,মেয়েকে নিয়ে যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্য ভাবে চলাফেরা করতে পারি,আমাদের ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে ঠিক সেভাবে চলাফেরা করতে পারিনা। আমাদের  পুরুষ শাসিত সমাজে কবুল বলা মাত্রই একটি নারীর শরীর এবং মন ওই পুরুষের অধিনে হয়ে যায়।তার দাস হয়ে যায়। এ সমাজে নারীর কোন অধিকার নেই। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সে নাপাক কিন্তু অন্য সময়ে পুরুষের ভোগবস্তু! ধর্মগ্রন্থে বলেছে নারীকে প্রহার করতে তারা সেটাই করবে। পুরুষের ইচ্ছানুযায়ী সে একাধিক বিয়ে করতে পারবে কিন্তু নারী পারবেনা। নারীর কোন অধিকার নেই দাসত্ব চাড়া। একজন নারী রাতের আধারে ঘর থেকে বের হতে পারবেনা কিন্তু পুরুষ যখন ইচ্ছে হবে যেতে পারবে। কোন রমণী যদি সাজসজ্জা করে ঘর থেকে বের হয় ধর্মযাজক পর্যন্ত তাকে নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসি করে, বাকিদের কথা না বলাই ভালো। তারা মেয়েদের উচ্চ বুক, প্রশস্ত পিঠ, ভরাট পাছা দেখেই তার মাপ(সাইজ) বলে দিতে পারে।কিন্তু কোন মেয়েটার গালে টোল পড়ে, হাসিতে মুক্তা ঝরে, হরিণী চোখ তার সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিচ্ছে তার হিসাব না করে, কচি ঘাস যেভাবে ছাগল খায় তাদের সেভাবে খেতে চায় ওরা। কিন্তু অদ্ভুত কারণে তাদের মা,বোনদের খোলা পিঠ, ভরাট পাছা, উড়নাহীন উচ্চ বুক দেখে সেই কচি ঘাস খাওয়ার ইচ্ছে জাগেনা! হ্যা, এটাই হচ্ছে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষদের আচরণ।

নারীর কোন অধিকার নেই এই সমাজে, কোন শিশু, কিশোর, যুবক, মুক্তচিন্তার অধিকারী, প্রথাবিরোধী, নাস্তিক, অন্যধর্মাম্বলম্বী, অবিশ্বাসীদের কোন স্থান নেই।সামাজিক রীতিনীতি আমাদের অদৃশ্য শিকল পরিয়ে গুয়ানতানামো বে কারাগার থেকেও ভয়ংকর কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আমাদের সমাজে চোরের শাস্তি হচ্ছে প্রথমত তাকে পিটানো, নির্মম নির্যাতন, সামাজিক ভাবে হেয় করা অথবা সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা।এসব করেও তাদের শান্তি নেই, দেখলেই নাক সিটকাবে। এতেই কি সে চুরি ছেড়ে দেয়? কেউ কি তাকে দোকানে/বাড়িতে বসিয়ে এক কাপ চা খাইয়ে জিজ্ঞাস করেছে কখনো, সে কেন চুরি করে?

আমাদের সমাজের চোখে, একটা ছেলে ও মেয়ে হাত ধরাধরি করে হাটলে অথবা একসাথে চলাফেরা  করলে সেটা হয় ব্যভিচার কিন্তু যাদের চোখে এইসব ব্যভিচার তারাই আবার প্রতি রাতে তাদের স্ত্রীদের ধর্ষণ করে!

আমাদের সমাজে নিচু শ্রেণির লোকদের কোন স্থান নেই, তাদের কথা ও অর্থহীন ভাবে দেখা হয়। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয় সমাজ থেকে। এমনকি তারা ধর্মীয় প্রার্থনালয়েও এই উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করে!

পরিবারঃ পৃথিবীর সব সম্পর্কের মধ্যেই রয়েছে স্বার্থপরতা। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় কোন স্বার্থপর সম্পর্ক যদি থেকে থাকে তবে তা হচ্ছে, পিতা/মাতা-ছেলে/মেয়ে! পৃথিবীর সব নারী এবং পুরুষ প্রাকৃতিক নিয়মে পিতা ও মাতা হতে পারে; কিন্তু মা ও বাবা হতে পারেনা সবাই। সবচেয়ে বড় স্বার্থপর সম্পর্ক বলার কারণ, তারা সন্তান জন্ম দেয় কেন? আবার নির্দিষ্ট বয়সের পরে দূরে ঠেলে দেয় কেন? তাদের উপার্জিত অর্থের ভাগ চায় কেন? আমরা কেন এক সময় তাদের থেকেও অন্য কাউকে বেশি প্রাধান্য দেই? একসময় কেন তাদের খাওয়ার দিতে চাইনা? কেন তারা মূল্যহীন হয়ে যায় আমাদের জীবনে?

ভাববাদী দৃষ্টিতে প্রশ্নগুলো অর্থহীন, কিন্তু বস্তুবাদী দৃষ্টিতে কখনো নয়। আমি আমার পিতা-মাতা, বোনদের (ভাই নেই) অনেক ভালোবাসি। তারাও আমাকে অনেক ভালোবাসে  এটা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু কেন তারা আমাকে ভালোবাসে? আমি কেন তাদের ভালোবাসি? কারণটা কি?

আমার মাতা-পিতা আমার বয়সী কোন ছেলেকে তাদের নিজের ছেলের মত ভালোবাসেন না কেন? আমি কেন আমার পিতা-মাতার বয়সী কাউকে তাদের মত ভালোবাসি না? কেন এই বৈষম্য? বংশ রক্ষার্থে আমার জন্ম, তার চেয়ে বেশি কিছু নই আমি। মানুষের যৌন মিলনে তাদের সন্তান না হয়ে দুইজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষ একে অপরকে ভালোবেসে একই সাথে যদি সন্তান চাইতো তবে যদি সন্তান হতো তাহলে তারা প্রকৃত মা-বাবা হতে পারতো।

আমার মা-বাবা আমার কাছে শ্রেষ্ঠ নয় কেননা তারা আমার স্বপ্ন বুঝতে চায়নি। তাদের নিজের মত করে আমাকে গড়তে চেয়েছে। আমাকে তারা জন্ম দিয়েছে বলে তাদের কোন অধিকার নেই আমার স্বপ্ন, আমার আশায় হস্তক্ষেপ করার। আমি অবশ্যই একজন ভালো বাবা হওয়ার চেষ্টা করবো, শুধু জন্মদাতা /পিতা নয়।

প্রত্যেকটি মানুষের নির্দিষ্ট একটি স্বপ্ন থাকে, যা তাকে পূর্ণ করতে হয়; যার জন্য তার জন্ম হয়েছে।

প্রত্যেকটি মানুষকে ভাবা দরকার যে, "আমি সামান্য হলেও অসাধারণ ব্যক্তি, কেননা অন্যদের সাথে আমার মিল নেই, তাদের মত করে আমি ভাবিনা।অনেকদিন পর, একদিন আমি অস্বাভাবিক কিছু করবো। এর জন্যেই আমার জন্ম।"

যে নিজেকে নিয়ে ভাবে না সে অন্যদের কোন উপকারে লাগেনা, তাই আমরা  স্বপ্নের সিঁড়িতে চড়বো আমাদের স্বপ্ন, আশা নিয়ে। এবং ওই স্বপ্নজাল বুনার জন্যে মন যে বিষয়ে আগ্রহী সেই শিক্ষা গ্রহণ করাই হচ্ছে সুশিক্ষা।

July 8, 2019

ধর্ষণঃ পোশাক বা ধর্ষিতা নয়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা এবং মানসিকতা দায়ী।

©Photo: Imprint 
মানুষ তার নিজস্ব বিশ্বাসকে সবসময় সবচেয়ে উপরে রাখে, এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই জীবন ধারণ করে।আর এই বিশ্বাস তৈরি হয় সামাজিক পরিবেশ, পারিবারিক পরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে।বিশ্বাস হচ্ছে এক ধরণের বীজ, যে যেরকম বিশ্বাস মস্তিষ্কে বপন করে ঠিক সেরকম উদ্ভিদ জন্মায়।একটা মানুষকে তার চিন্তাভাবনা অসাধারণ ব্যাক্তি করে তুলতে পারে, আবার তাকে ধব্বংস ও করে দিতে পারে।আস্তিক কিংবা নাস্তিক হোক সবাই বিশ্বাস করে।আপনার বিশ্বাস যখন আপনাকে অন্ধ বানিয়ে দেয়, আপনার ধর্মীয় নৈতিকতা, আপনার চিন্তাভাবনা যখন আপনাকে কথিত শেষ্ঠ জীব থেকে পশু বানিয়ে দেয় এই দায় কার?

বাংলাদেশে কতগুলো ধর্ষণ হয় সে হিসাব কষতে গেলে বাঙালি হিসেবে লজ্জা ছাড়া আর কিছুই নেই। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ধর্ষণ হলেই নারীর পোশাক এবং তার চরিত্র নিয়ে সমাজ কথা বলে।আর পুরুষকে দেবতা বানিয়ে পুজো করাটাই বাকি রাখে! একটা শিশু মেয়ে/ছেলে ধর্ষণের শিকার হয় কেন? ষাটোর্ধ বৃদ্ধা কেন ধর্ষিত হয়? অবলা প্রাণী ছাগল কেন ধর্ষণ হয়? ছোট বাচ্ছা ছেলে/মেয়ে,বৃদ্ধা, ছাগল/গরু এদেরও কি পর্দা করতে হবে?

শিশু(ছেলে মেয়ে উভয়) ধর্ষণ, কিশোর-কিশোরী ধর্ষণ,বিবাহিত নারী ধর্ষণ, সন্তানের জননী ধর্ষণ, বৃদ্ধা ধর্ষণ, পশুধর্ষণ এবং বৈবাহিক ধর্ষণ(স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকর্ম করা।) এসব আমাদের দেশে বহুবছর ধরে চর্চা করা হচ্ছে।বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যের কল্যাণে আমরা কিছু সংবাদ দেখি।ধর্ষণের বেশিরভাগ সংবাদ থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে।এমনকি ধর্ষণের ব্যপারটা মিটমাট করতে ধর্ষিতার সাথে ধর্ষকের বিয়েও দেয় সমাজ।অনেক বাচ্ছা শিশু, ছেলে/মেয়ে যৌন নির্যাতিত হয় তার নিজের পরিবারের মানুষ বা আত্মীয় স্বজনদ্বারা।অনেক নারী নিজের ইচ্ছে না থাকা সত্তেও স্বামীর চাহিদা পূরণে নিজেকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে তুলে দেয় স্বামীর হাতে।ধর্ষণের শিকার হওয়া মানুষগুলোর জৈবিক মৃত্যু হওয়ার আগেই তাদের ভেতরের মানুষটা মরে ভূত হয়ে যায়। বিভিন্ন সংস্থা শুধুমাত্র খবরেরকাগজ থেকে প্রাপ্ত ধর্ষণের সংবাদ হিসেব কষে সংখ্যা বলে দেয়।বাস্তবে কিন্তু প্রকাশিত এই সংখ্যার ১০গুণ বেশি ঘটনা ঘটে।সংবাদ মাধ্যমের তথ্যগুলোর দিকে তাকালে অবাক হতে হয়।গত ৬ মাসে ৪০০ এর অধিক ধর্ষণ হয়; এদের মধ্যে ৫০ জন শিশু, ১৬জন মারা যায়।২০১৮তেই শুধুমাত্র শিশু ধর্ষণ হয়েছিলো ৩৫৬টি, এদের মধ্যে ২২জন মারা যায়।

এই বঙ্গভূমি ধর্ষণভূমি হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা এবং মনোভাব।পুরুষ চায় না নারী কখনো সমাজে আধিপত্য বিস্তার করুক।তাই পুরুষ ধর্ম এবং রাজনীতির সুশৃঙ্খল শিকলে নারীকে বন্দী করে রেখেছে।নারী নিষিদ্ধ, নারী ভোগ্যপণ্য ও নারীর বুদ্ধি কম, তাই নারী পুরুষের দাসত্ব করবে।এই মনোভাব পোষণ করে শিক্ষাব্যবস্থা এবং সমাজব্যবস্থা নির্মাণ করেছে পুরুষ।নারী স্বামীর চাহিদা মত নিজেকে বিলিয়ে না দিলে সে অসতী, পুরুষের যৌনচাহিদাকে প্রাধান্য দেয় এই সমাজ।ধর্মীয় বাণীও পুরুষকেই যৌনস্বাধীনতা দেয়।পাঠ্যবইয়েও দেখানো হয় নারীকে দূর্বল হিসেবে।এমনকি পরিবারেও লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হতে হয় নারীকে।পুরুষরাও এই মনোভাব নিয়েই বড় হয়ে উঠে।এই বিকৃত মস্তিষ্ক নিয়ে বেড়ে উঠা পুরুষরাই যৌনকামে উত্তেজিত হয়ে সামনে শিশু থাকুক, ছেলে থাকুক, বিবাহিত নারী কিংবা সন্তানের জননী ছাড়াও বৃদ্ধা এবং পশুকেও ছাড় দেয়না এইসব ছিদ্রান্বেষী পুরুষেরা।কেননা তাদের যৌনতা নিয়ে বিধিনিষেধ নেই।তারা সবসময়েই দূর্বলকে বাছাই করে যৌনকর্মে।

বর্তমানে ধর্ষণের পর হত্যা তুমুল ভাবে বেড়ে চলেছে।পূর্বে কেউ ধর্ষিত হলে থানা-পুলিশ পর্যন্ত যেতে দিতনা সমাজের বিচারকদের কারণে।বর্তমানেও তুলনামূলকভাবে থানায় যাওয়া বাড়লেও, এখনো সমাজের বিচারকগণ এটাকে মিমাংসা করে দিতে চায়।এমনকি থানায়ও মামলা না নিয়ে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিতে চায় ধর্ষিতাকে।এর মাঝেও কিছু সাহসী নারী আদালত পর্যন্ত হাজির হন।একজন ধর্ষক যখন কাউকে ধর্ষণ করেন তখন নিজের ক্ষতি হবার ভয়ে ধর্ষিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।এমনকি কোন ধর্ষিতা রক্ষা পেলে তাকে পুনরায় ধর্ষণ করা হয় ধর্ষণের পরিক্ষার নামে।তাকে সমাজ ধর্ষণ করে, রাষ্ট ধর্ষণ করে।এত বার ধর্ষিত হওয়ার পরেও যেসব নারী বেচে আছেন, তারা সত্যিকারের যোদ্ধা।তবে অনেকেই বারবার সমাজের কাছে, লোকের কাছে ধর্ষণ হবার ভয়ে নিজেকেই শেষ করে দেয়।আমাদের বঙ্গভূমিতে একটা ছেলে ও মেয়ে যৌনকর্ম করার পরে বন্ধুমহলে বলা হয় "মেয়েটাকে খেয়ে দিছি", এবং "ছেলেটা সেক্স করেছে"।শব্দচয়নের মধ্যেও পুরুষতান্ত্রিকতা বিরাজমান। আমাদের সমাজে মেয়েদের পিরিয়ড এখনো ট্যাবু, মেয়েদের মাসিকের রক্তকে অপবিত্র বলা হয়।এই ব্যাপার নিয়ে পরিবারে আলোচনা হয়না।সমাজ যদি জানতে পারে তবে হাসিঠাট্টা শুরু।স্বামীর খুশিমতো স্ত্রীকে যৌনকর্মে অংশগ্রহণ করতে হবে, নাহলে ধর্মীয় দিক দিয়েও মেয়েটার পাপ হবে।

ধর্ষণ রোধ করতে হলে আমাদের চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস আগে পরিবর্তন করতে হবে।আমাদের বুঝতে হবে মেয়ে এবং ছেলে দু'জনের চাহিদা সমান।আমাদের পরিবার থেকে শিক্ষা দিতে হবে মেয়ে এবং ছেলের সব কিছুর অধিকার সমান৷কেউ কারো থেকে বড় নয়।সবার মতামতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।মেয়দের মাসিকের রক্ত নিষিদ্ধ নয়, মেয়েদের মতামতকেও সম্মান দিতে হবে।সব মানুষের মত প্রকাশ, সবাইকে সমাজ সমান দেখতে হবে।বিপরীত জনের সম্মতি ছাড়া যৌনকর্ম চুরি/ডাকাতির চোখে যদি সমাজ দেখে, পরিবার যদি মেয়ে এবং ছেলেদের সঠিক যৌনশিক্ষা প্রধান করে, পাঠ্যবইয়ে নারীদের ছোট না করে সবাইকে সমান দেখায়; তবে পরবর্তী প্রজন্মে ধর্ষক জন্মাবেনা।

আমি স্বপ্ন দেখি এমন সমাজের, যেখানে সব মানুষ সমান।সবাই সমান গুরুত্ব পাবে, সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।নারীদের পিরিয়ডের রক্তকে পবিত্র ভাবা হবে।ছেলে এবং মেয়েদের ইচ্ছাকে পরিবার সম্মান দিবে।পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব থেকে বের হয়ে মানুষ সভ্য হবে।একটি ধর্ষণ ও হবেনা, বরং নারীত্বকে সম্মান করতে শিখবে।শারীরিক শক্তিশালী পুরুষকে সমাজ যেভাবে বাহবা দেয়, নারীর নিতম্ব ও স্তন দেখে অশ্লীল মন্তব্য না করে, তার কাজ নিয়েও বাহবা দিবে।জানি পরিবর্তন অনেক কঠিন, কিন্তু আগে আমাদের নিজেদেরকেই চেষ্টা করতে হবে।অন্ধবিশ্বাস ঝেড়ে না ফেললে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই সমাজব্যবস্থায় থেকে তারাও ধর্ষকে পরিনত হবে।আমাদের কাছের কেউই আবার ধর্ষিত হবে।ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য লড়াই করা এবং ধর্ষিত ব্যাক্তিকে কখনো দোষ না দিয়ে তার পাশে দাড়াতে পারলেই তবে আপনার নিজেকে মানুষ ভাববেন।
<a href="https://www.bloglovin.com/blog/20176393/?claim=h2pp7d67dca">Follow my blog with Bloglovin</a>